রক্তে রাঙ্গা- ২১শে ফেব্রুয়ারী ও আমাদের দায়বদ্ধতা

১৯৪৭ সালের ১৪ আগষ্ট পাকিস্তান স্বাধীনতালাভের ১৭ দিনের মাথায় ১লা সেপ্টেম্বর ১৯৪৭ সালে প্রিন্সিপাল আবুল কাশেম অধুনালুপ্ত পাকিস্তানের রাষ্ট্রভাষা বাংলা প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে ঢাকার ১৯নং আজিমপুরকে কেন্দ্র করে ‘তমদ্দুন মজলিশ’ নামের সংগঠনটি প্রতিষ্ঠা করেন। তিনি ৭/৯/১৯৪৭ইং তারিখে ‘তমদ্দুন মজলিশের’ অফিসটি খোলেন। শুরুতেই এর সাথে জড়িত হয়ে পড়েন কবি মোফাখ্খারুল ইসলাম, ডঃ নুরুল হক ভূইয়া, সৈয়দ নজরুল ইসলাম, একেএম আহসান, শাসছুল ইসলাম, ইঞ্জিনিয়ার নুরুল হুদা, ডঃ মোহাম্মদ শহীদুল্লাহ, প্রিন্সিপাল ইব্রাহিম খাঁ, আবুল মনসুর আহমেদ, কবি ফররুখ আহমেদ, আই.জি.পি আব্দুল খালেক প্রমুখ। প্রিন্সিপাল আবুল কাশেম ১৫/০৯/১৯৪৭ সালে, “পাকিস্তানের রাষ্ট্রভাষা বাংলা না উর্দু” নামে ১৮পৃষ্ঠার একটি পুস্তিকা প্রকাশ করেন। অনুরূপভাবে পাকিস্তানের রাষ্ট্রভাষা উর্দু ঘোষণার আভাস পেয়ে ডঃ মুহাম্মদ শহীদুল্লাহ “পাকিস্তানের ভাষা সমস্যা” নামে একটি প্রবন্ধ লিখেন। এতে তিনি স্পষ্টতঃই উল্লেখ করেন “উর্দুকে রাষ্ট্রভাষা হিসেবে ঘোষনার অর্থই হলো পূর্ব পাকিস্তানের জনগনের স্বায়ত্ব শাসন ও আত্মনিয়ন্ত্রন অধিকারকে অস্বীকার করা।” তাঁর এ বক্তব্যে এদেশের শিক্ষিত জনগোষ্ঠী ফুঁসে ওঠে। তাই ডঃ শহীদুল্লাহকে ভাষা আন্দোলনের উৎস পুরুষ বলা হয়।

সৃষ্ট প্রাণীদের মাঝে মানুষই ¯্রষ্টার স্বীকৃত শ্রেষ্ঠ প্রাণী। আর মানব জাতিকে ¯্রষ্টা প্রদত্ত উপকরণ ও অনুভূতি প্রকাশের মাধ্যম হিসেবে ভাষাই সবচে’ গুরুত্বপূর্ণ। পৃথিবীর বিভিন্ন জনপদে বসবাসকারী মানুষের দৈহিক গঠন, আবহাওয়া এবং খাদ্যভ্যাসের ভিন্নতার কারণে ভাষার ভিন্নতা পরিলক্ষিত হয়। বর্তমান বিশ্বের জনসংখ্যা প্রায় সাতশত কোটি। আর ভাষা প্রচলিত রয়েছে প্রায় ৫৩০০টি। এর মাঝে গণচীনের মান্দারিন ভাষাভাষির সংখ্যা সবচে’ বেশী। এ ভাষায় কথা বলে এককভাবে প্রায় ১০৫ কোটি লোক। আর সবচে’ কম ভাষাভাষির সংখ্যা মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের আলাস্কার আইয়াক ভাষি মাত্র ৪জন। শব্দের বিবেচনায় সবচে’ বেশী শব্দ রযেছে ইংরেজী ভাষায়। এর শব্দ সংখ্যা ৪লাখ ৯০ হাজার। পরিভাষার সংখ্যা ৩০ লাখ। তবে সাধারণতঃ ব্যবহৃত হয় ৬০ হাজার শব্দ। এতে ইংরেজীতে সবচে’ বেশী ব্যবহৃত শব্দগুরো হলো- ঞযব, ড়ভ, হড়, ধহফ, ঃড় রহ, রং, ধৎব, ুড়ঁ, ঃযধঃ, রঃ, যব, ংযব, ভড়ৎইত্যাদি। তবে ংবঃ শব্দটি ব্যবহৃত হয় ১৯৪ প্রকার অর্থে। এর মাঝে বিশেষ্য পদ হিসেবে ৫৮ প্রকার অর্থে, ক্রিয়া পদ হিসেবে ১২৬ প্রকার এবং বিশেষণ হিসেবে ১০ রকম অর্থে। ইংরেজীতে সবচে’ বড় ব্যবহৃত শব্দ হলো উরংঢ়ৎড়ঢ়ড়ৎঃরড়হধঃবষু- যার অর্থ অসামঞ্জস্যপূর্ণভাবে। এতে ১৯ বর্ণমালা ব্যবহৃত হয়। ইংরেজী ভাষার সবচে’ প্রাচীন শব্দ হলো অঢ়ঢ়ষব, ইধফ, এড়ষফএবংঞরহ।
কম্বোডিয়া বা বর্তমান কাম্পুচিয়ার জনগনের ভাষার নাম- খেমার। খেমার ভাষায় ব্যবহৃত বর্ণমালার সংখ্যা ৭৪টি। লিখিত ভাষাগুলোর মাঝে সবচে’ কম বর্ণমালা ব্যবহৃত হয় প্রসান্ত মহাসাগরীয় দ্বীপ বোগেন ভিল দ্বীপপূঞ্জের রোস্টাকাসু ভাষায়। এ ভাষায় ব্যবহৃত হয় মাত্র ১১টি বর্ণমালা। চীনা ভাষায় কোন বর্ণমালা নেই। এতে ব্যবহৃত হয় ৬০০০ এর মত চিত্র। এযাবৎকালে লিখিত বাক্যের মধ্যে ফরাসী উপন্যাসিক ভিক্টোর হুগোর লেখা ‘লা মিজারেবল’ উপন্যাসের একটি বাক্যে ৮২৩টি শব্দ, ৯৩টি কমা, ৫১টি সেমিকোলন এবং ৪টি ড্যাস ব্যবহৃত হয়েছে। পৃথিবীর সবচে’ বড় পুস্তক ‘ইংগল দাদিয়েন’। ২০০০ জন চীনা ভিক্ষু ১০ বছর পরিশ্রম করে বইটি লিখেন। এতে ২২,৯৩৭টি পরিচ্ছদ রয়েছে এবং ১১,০৯৫ খন্ডে বিভক্ত। দ্বিতীয় বৃহত্তম বই ‘বৃটিশ পার্লামেন্টারী পেপারস’- যা ১১১২ খন্ডে বিভক্ত। ওজন ৩মেঃটন। দৈনিক দশ ঘন্টা পড়লে সময় লাগবে ১০ বছর। বইগুলো বাঁধাই করতে ৩৪ হাজার ছাগরের চামড়া ব্যবহৃত হয়েছে। প্রতি খন্ড বইয়ের মূল্য ধার্য করা হয়েছে ৪৯,৫০০ পাউন্ড। বিশ্বের সবচে’ বড় ডিকশনারী হলো- ঙীভড়ৎফ উরপঃরড়হধৎু । ২০ খন্ডে মুদ্রিত। পৃষ্ঠা সংখ্যা একলক্ষ পাঁচ হাজার। পৃথিবীর সবচে’ দামী বই ‘দ্যা গস্পেল বুক অব হেনরী দ্যা লায়ন- ডিউক অব সেক্সনী। গাছের পাতায় লেখা। পৃষ্ঠা সংখ্যা ২২৬। মূল্য এক কোটি চল্লিশ লক্ষ পাউন্ড। পৃথিবীর সবচে’ বড় বইয়ের দোকান মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের নিউ ইয়র্ক শহরের ‘বার্নস এ্যান্ড নোভেলস’। এর আয়তন ১লক্ষ ৫৪ হাজার বর্গফুট। সেলপের দৈর্ষ্য ১৩ মাইল। পবিত্র কোরানে বাক্যের সংখ্যা ৬৬৬৬টি, শব্দ ৮৬,৪৩০টি এবং ব্যবহৃত বর্ণমালার সংখ্যা ৩২,১২,৬৭০টি। বিশ্বের বৃহত্তম মহাকাব্য মহাভারত। এতে ২লাখ ২০ হাজার পংতি রয়েছে। ভারতে ৮৪৫টি ভাষা প্রচলিত। স্যার জন বোরিং ২০০ ভাষা জানতেন। ২য় স্থানে ছিলেন ফ্রান্সের জর্জেস স্কেমেডিট যিনি জানতেন ৩০টি ভাষা আর তৃতীয় স্থানে ডঃ মোঃ শহীদুল্লাহ। ইনি জানতে ১২টি ভাষা। পৃথিবীর আদি বর্ণমালা তথা সিমেটিক ভাষার বর্ণমালা ছিল ২২টি। আর সেখান থেকেই ভাষার লিখিত রূপের যাত্রা শুরু। যীশু খ্রীষ্টের জন্মের ৫৫০০ বছর আগে সুমেরিয়ানরা লিখন পদ্ধতি আবিস্কার করে। মানুষ ছবি আকঁতে শেখে ৪০,০০০ বছর আগে।
১৯৪৭ সালের ১৪ই আগষ্ট ভারত উপমহাদেশ হতে মুসলমান জন অধ্যুসিত এলাকা নিয়ে পাকিস্তান গঠিত হয়। পূর্ব বঙ্গ পাকিস্তানের একটি প্রদেশ হিসেবে পাকিস্তানভূক্ত হয়। পরে এর নামকরণ করা হয়- পূর্ব পাকিস্তান। পাকিস্তানের জাতির পিতা মোহাম্মদ আলী জিন্নাহ পাকিস্তানের প্রথম গভর্ণর জেনারেল মনোনীত হন। ১৯৪৮ সালে কায়েদে আযম মোহাম্মদ আলী জিন্নাহ ঢাকা সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে এক জনসভায় উর্দুকে পাকিস্তানের রাষ্ট্র ভাষা হিসেবে ঘোষণা করলে বাংলাভাষি এদেশের মানুষ প্রতিবাদে ফেটে পড়ে। প্রকৃত অর্থেই পূর্ব পাকিস্তান ছিল জনসংখ্যাগরিষ্ট প্রদেশ- যা আজ স্বাধীন সার্বভৌম বাংলাদেশ। এদেশের স্বাতন্ত্র সাংস্কৃতিক সত্বায় বিশ্বাসী প্রগতিশীল রাজনীতিবিদ, বুদ্ধিজীবি এবং ছাত্র সমাজ- প্রতিবাদী হয়ে উঠেন। বিশেষতঃ মজলুম জননেতা আব্দুল হামিদ খান ভাষানী, কমরেড তোয়াহা, কমরেড আব্দুল মতিন (ভাষা মতিন হিসেবে খ্যাত), মরহুম ওলি আহাদ, তমদ্দুন মজলিশের অধ্যাপক মরহুম আবুল কাশেম, অধ্যাপক আব্দুল গফুর, ইত্তেহাদ পত্রিকার সম্পাদক আব্দুল ওযাহেদ চৌধুরী, অধ্যাপক আবুল কাশেমের ১৯ নং আজিমপুর রোডস্থ বাসাকে কেন্দ্র করে রাষ্ট্র ভাষা উর্দুর পরির্বতে বাংলাকে প্রতিষ্ঠা করার লড়াইকে এগিয়ে নিয়ে যান। এ ঠিকানা হতেই প্রকাশিত হতো সাপ্তাহিক সৈনিক প্রত্রিকা- যা ভাষা আন্দোলনকে একটি পূর্নাঙ্গ রূপ দিতে সক্ষম হয়। ছাত্র নেতা হিসেবে মরহুম কমরেড তোয়াহার অনবদ্য ভূমিকা ভাষা আন্দোলনের ইতিহাসের অলংকার। অধ্যাপক আবুল কাশেম সাহেবের ১৯ নং আজিমপুরস্থ বাড়ীকে কেন্দ্র করে গড়ে উঠে ভাষা সংগ্রাম পরিষদ। পাকিস্তানের স্বাধীনতা লাভের পর বাংলা ভাষার অধিকার প্রশ্নে এদেশে সর্ব প্রথম হরতাল পালিত হয় ১১ই মার্চ ১৯৪৮ সালে।
বৃটিশ ভারতে সর্বভারতীয় ভাষা সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয় ১৯১৮ সালে, কোলকাতায়। উদ্দেশ্য ভারতবাসীর রাষ্ট্র ভাষা কি হবে তা ঠিক করা। এতে সভাপতিত্ব করেন নোবেল বিজয়ী বিশ্বকবিখ্যাত রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর। প্রধান অতিথি ছিলেন বহুভাষাবিদ, মরহুম ডঃ শহীদুল্লাহ। রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর বাংলা ভাষার কবি হওয়া সত্তে¡ও মাত্র তৎকালীনতিনকোটি ভাষাভাষির হিন্দির কথাই জোরের সাথে বল্লেন। বল্লেন হিন্দিই হবে ভারতের একমাত্র রাষ্ট্রীয় ভাষা। আর ডঃ শহীদুল্লাহ বললেন- যেহেতু বাংলা ভাষির সংখ্যা এককভাবে বেশী। তাই বাংলাই হওয়া উচিত ভারতের রাষ্ট্র ভাষা। ১৯৬১ সালের মে মাসে ভারতের আসাম প্রদেশে বাংলা ভাষার দাবীতে আন্দোলন চলে। এতে পুলিশের গুলিতে ১৯জন লোক প্রাণ হারায়। সরকার জনতার দাবী অস্বীকার করে। এমন কি আসামের ভাষা শহীদদের স্মৃতি রক্ষার্থে একটি শহীদ মিনার ও তৈরী করতে দেয়নি। তাই তারা প্রতি বছর আমাদের ২১ শের শহীদ মিনারে এসে ফুল দিয়ে যায়। তবে একথা সত্য যে, কোন রাষ্ট্রে, কোন জাতির ভাষার স্বীকৃতি প্রমান করে ঐ রাষ্ট্রে ঐ বিশেষ জাতির গ্রহনযোত্যা বা স্বীকৃতি। অর্থাৎ শ্রেষ্ঠত্ব। তবে হিন্দি ভাইরাসে আমাদের মাতৃভাষা বাংলা ক্রমশঃই তার বৈশিষ্ট্য হারাচ্ছে।
তবে এ কথা অনস্বীকার্য যে, বাংলা ভাষা অতলান্তিক সাগরের মতো, গভীর অর্থবোধক, আকাশের মতো দিগন্ত প্রসারী এবং অতীব ছান্দসিক বিধায় এ ভাষায় প্রচুর বিদেশী শব্দ রয়েছে। আর এ প্রক্রিয়াই এ ভাষার ভান্ডারকে স্ফীত করেছে। তাই এ ভাষার শ্রেষ্ঠত্বের নিকট যে সব ভাষা হতশ্রী, সে সব ভাষা ভাসিরা কেউ একে বিলুপ্ত করতে চেয়েছে, আবার কেউ এ ভাষা এবং ভাষাভাষিদের রৈ রৈ নামক নরক যন্ত্রনার ভয়ও দেখিয়েছে তাদের ধর্মগ্রন্থে। প্রনিধান যোগ্য যে এ ভাষা আন্দোলনের হাত ধরেই এ বাংলা ভাষাভাষিরা স্বাধীন সত্বা তথা স্বাধীনতা লাভ করে। ’৫২-র রক্ত¯্রােত সৃষ্টি করে ’৭১ এর রক্তবন্যা। আর এতে ভেসে যায় বাংলাভাষা বিরোধীদের তখতে তাউস। ১৯৫২ সালের ২১শে ফেব্রæয়ারী ছাত্র জনতার প্রতিবাদী মিছিলে ঢাকার ডিএসপি মাসুদ মাহমুদের নির্দেশে পুলিশ গুলি করলে ঝরে পড়ে ৫টি তাজা প্রাণ। পরের দিন গুলির প্রতিবাদে মিছিল বেরুলে আবারও ২জন শহীদ হন। নি¤েœ শহীদদের সংক্ষিপ্ত পরিচিতি তুলে ধরা হলোঃ
১. শহীদ রফিক উদ্দীন আহমেদঃ জন্ম ৩০শে অক্টোবর ১৯২৬ইং। গ্রামঃ পরিলবধারা, মানিকগঞ্জ। ছিলেন জগন্নাথ কলেজের ছাত্র। ১৯৫২ইং সনের ২১শে ফেব্রæয়ারী প্রতিবাদী মিছিলে পুলিশের গুলিতে শহীদ হন।
২. শহীদ আবুল বরকতঃ বর্তমান ভারতের মুর্শিদাবাদ জেলার বাবলা গ্রামে ১৯৮২ইং সনে জন্মগ্রহন করেন। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে রাষ্ট্র বিজ্ঞান বিভাগের ছাত্র ছিলেন। বর্তমান ঢাকা মেডিকেল কলেজ হোষ্টেলের ১২নং রোডের নীচে পুলিশের গুলিতে শহীদ হন।
৩. শহীদ আব্দুর জব্বারঃ তৎকালীন বৃহত্তম ময়মনসিংহ জেলার গফরগাঁও থানার পাচুয়া গ্রামে বাংলা ১৩২৬ সালের ২৬শে আশ্বিন জন্মগ্রহন করেন। পেশায় ছিলেন দর্জী। প্রতিবাদী মিছিলে যোগদান করতে গিয়ে পুলিশের গুলিতে শহীদ হন।
৪. শহীদ শফিউর রহমানঃ জন্ম ২৪শে জানুয়ারী ১৯১৮ইং। ভারতের হুগলি জেলার কোন নগরে জন্মগ্রহন করেন। পেশায় ছিলেন ঢাকা হাইকোর্টের কেরানী। নবাবপুর রোডে প্রতিবাদী মিছিলে গুলিবিদ্ধ হয়ে শহীদ হন।
৫. শহীদ আব্দুস সালামঃ জন্ম বর্তমান ফেনী জেলার লক্ষণপুরে। পিতা ফাজিল মিয়া। পেশায় ছিলেন শুল্ক বিভাগের পিওন। একুশে ফেব্রæয়ারী মিছিলে গুলিবিদ্ধ হয়ে আহত হন। চিকিৎসাধীন থাকা অবস্থায় ৭ই এপ্রিল ১৯৫২ইং তারিখে মৃত্যুবরণ করেন।
৬. শহীদ আব্দুর আওয়ালঃ জন্মসূত্রে ঢাকার ছেলে। পিতা মোঃ হাসেম। ২২শে ফেব্রæয়ারী ২১শে ফেব্রæয়ারীতে শহীদদের শোক মিছিলে গুলিবিদ্ধ হয়ে শহীদ হন।
৭. শহীদ ওহি উল্লাহঃ পিতা হাবিবুর রহমান। ১০বছরের কিশোর। ২২শে ফেব্রæয়ারী নবাবপুর রোডে ২১শে ফেব্রæয়ারীর শহীদদের শোক মিছিলে গুলিবিদ্ধ হয়ে শহীদ হন। পুলিশ তার লাশ গুম করে ফেলে।

বাংলা সাহিত্যের যা কিছু প্রথমঃ
১। বাংলা ভাষায় প্রথম বাংলা ব্যাকরন- ম্যানুয়েল দ্য আসসম্পাসাও প্রকাশকালঃ ১৭৩৪ইং।
২। প্রনয় উপাখ্যান- ইউসুফ জুলেখা- শাহ মুহাম্মদ সগীর। প্রকাশকালঃ ১৪১০ সালের দিকে।
৩। বাংলা ভাষায় প্রথম মুদ্রিত গ্রন্থ- কথোপকথন- ইউলিয়াম কেরিঃ অষ্টাদশ শতক।
৪। বাংলা ভাষার প্রথম সাময়িকি- দিক দর্শনঃ ১৯১৮ইং।
৫। ঢাকায় প্রথম ছাপাখানা- বাংলা প্রেস, আজিমপুরঃ ১৮৬০ইং।
৬। মুসলমান সম্পাদিত প্রথম পত্রিকা- সমাচার সভারাজেন্দ্র, প্রকাশক-শেখ আলীমুল্লাহ ঃ ১৮৩১ইং।
৭। ইংরেজী ভাষার প্রথম প্রকাশিত বাংলা ব্যাকরন-উইলিয়াম কেরিঃ ১৯১৮ইং।
৮। প্রথম উপন্যাস, লেখিকা-স্বর্ণ কুমারী দেবী, উপন্যাস-দীপ নির্বানঃ ১৮৭৬ইং।
৯। বাংলা ভাষার প্রথম বাংলা ব্যাকরন “বাংলা ব্যাকরন” ইউলিয়াম কেরি।
১০। প্রথম বঙ্গীয় সাহিত্য সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়- কাশিম বাজার-কোলকাতাঃ ১৯০৬ সালে।

বাংলা ভাষা ও সাহিত্যে প্রথমঃ
১। বাংলা ভাষায় প্রথমে যতি চিহ্ন ব্যবহার করেন- ঈশ্বর চন্দ্র বিদ্যা সাগর।
২। বাংলা ভাষার প্রথম মৌলিক ট্রাজেডি- কীর্তি বিলাশ- যোগেন্দ্রনাথ গুপ্তঃ ১৮৫২ইং।
৩। বাংলা সাহিত্যে স্বার্থক নাট্যকার- মাইকেল মধুসূধন দত্ত।
৪। বাংলা সাহিত্যে প্রথম মুসলমান নাট্যকার- মীর মোশাররফ হোসেন।
৫। প্রথম বাংলা অক্ষর খোদাইকারী- পঞ্চানন কর্মকার।
৬। বাংলা সাহিত্যে প্রথম গীতি কবি- বিহারী লাল চক্রবর্তী।
৭। বাংলা সাহিত্যে প্রথম মুসলমান গদ্য লেখিকা- বিবি তাহেরুন নিছা।
৮। বাংলা সাহিত্যে প্রথম গীতি কবি- বিহারী লাল চক্রবর্তী।
৯। প্রথম মুসলিম গদ্য লেখক- শামসুদ্দিন মোঃ সিদ্দিকী।
১০। বাংলা সাহিত্যে প্রথম মুসলমান কবি- শাহ মুহাম্মদ সগীর।
১১। বাংলা সাহিত্যে প্রথম মুসলমান মহিলা কবি- মাহমুদা খাতুন সিদ্দিকা।
১২। বাংলা দৈনিক পত্রিকার প্রথম মহিলা সাংবাদিক- লায়লা সামাদ।

বাংলা সাহিত্যের মহাকাব্য ও রচয়িতাঃ
১।মেঘনাদ বধ – মাইকেল মধুসূধন দত্ত।
২। মহাশ্মশান – কায়কোবাদ।
৩। মহাভারত – বেদব্যাস।
৪। স্পেন বিজয় – সৈয়দ ইসমাইল হোসেন সিরাজী।
৫। রামায়ন – বাল্মিকী।
৬। বৃত্র সংহার – যোগীন্দ্রনাথ বসু।
৭। পৃত্থীরাজ – মোহাম্মদ হামিদ আলী।
৮। কাশেম বধ – হেমেন্দ্র চন্দ্র বন্দোপাধ্যায়।
৯। কুরুক্ষেত্র – নবীন চন্দ্র সেন।
১০। প্রবাস – নবীন চন্দ্র সেন।

কবি সাহিত্যিকদের প্রাপ্ত উপাধিঃ
১। রবীন্দ্র নাথ ঠাকুর – বিশ্ব কবি।
২। কাজী নজরুল ইসলাম – বিদ্রোহী কবি।
৩। ঈশ্বর চন্দ্র চট্টোপাধ্যায় – বিদ্যা সাগর।
৪। বঙ্কিম চন্দ্র চট্টোপাধ্যায় – সাহিত্য স¤্রাট।
৫। গোলাম মোস্তফা – কাব্য সুধাকর।
৬। ফররুখ আহমেদ – মুসলিম রেঁনেসার কবি।
৭। জীবনানন্দ দাস – রূপসী বাংলার কবি।
৮। সতেন্দ্র নাথ দত্ত – ছন্দের যাদুকর।
৯। নজিবর রহমান – সাহিত্য রতœ।
১০। মুকুন্দ রাম দাস – চারণ কবি।
১১। আলাওল – কবিশ্বর/মহাকবি।
১২। আব্দুল কাদির – ছান্দসিক কবি।
১৩। আব্দুল করিম – সাহিত্য বিশারদ।
১৪। জসিম উদ্দিন – পল্লী কবি।
১৫। গোবিন্দ দাস – স্বভাব কবি।
১৬। সুকান্ত ভট্টাচার্য – কিশোর কবি।
১৭। রাম নারায়ন – তর্ক রতœ।
১৮। পদাবলীর কবি – বিদ্যাপতি।
১৯। নুরুন নেছা খাতুন – সাহিত্য স্বরস্বতি/বিদ্যাবিনোদিনি।
২০। বেগম রোকেয়া – মুসলিম নারী জাগরনের অগ্রদূত।
’৫২-র ভাষা আন্দোলন প্রমান করে জনতার দাবীকে উপেক্ষা করে কোন স্বৈরাচার তার অন্যায় সিদ্ধান্ত চাপিয়ে দিতে পারেনা। আর টিকেও থাকতে পারেনা। ২১শে ফেব্রæয়ারী আসলে এক দিনের জন্য আমরা বাংলাভাষি হয়ে যাই। তাও আবার সর্বত্র নয়। দুঃখ হয়- আমরা উর্দু হটাতে গিয়ে হিন্দির শেকলে বন্দী হয়ে পড়েছি। আমাদের তিন বছরের শিশুরাও আজ দেদারছে হিন্দি আওড়াচ্ছে, গান গাচ্ছে। যে ভাষার জন্য আমাদের শহীদগণ জীবন উৎসর্গ করলেন, তাঁদের সে রক্তঋন আমরা পরিশোধ করার মানসিকতা পোষন করছি? কোথায় আমাদের ভাষা ও সংস্কৃতি অঙ্গনের দিকপালগণ? বছরের ৩৬৪ দিনই হিন্দি গানের সূরে ঘুম ভাঙ্গে- আর ঐ গান শুনতে শুনতে ঘুমুতে যেতে হয়। একে জাতির বিবেকের বন্ধ্যাত্ব ছাড়া আর কিই বা বলতে পারি। শহীদরাতো শিখিয়েছিলেন নিজের বৈশিষ্ট্য রক্ষার জন্য জীবন দিয়ে অন্যায়কে প্রতিরোধ করতে। তাই আসুন ২০১৬ সালের ২১শে ফেব্রæয়ারীতে প্রতিজ্ঞাবদ্ধ হই- আমরা বাংলা ভাষার কথা বলবো এবং নিজস্ব সংস্কৃতিকে সমৃদ্ধ করব- যার জন্য শহীদরা বুকের তাজা রক্ত দান করেছেন।

রক্তে রাঙ্গা- ২১শে ফেব্রুয়ারী
মহান ভাষা- আন্দোলন ও আমাদের দায়বদ্ধতা
– আহমেদ উল্লাহ ভূইয়া, বীর মুক্তিযোদ্ধা ও আয়কর আইনজীবী

[powr-contact-form id=d01d105f_1486008435171]

Tags: , , , , , , , , , , , , , , , , , , , , , , , , , , , , , , , , , , , , , ,