ভারতের এই গুরুত্ব হাসিনা (বাংলাদেশ) আদায় করে নিচ্ছ………

পত্রিকার পাতা থেকে

জাতি ধর্ম ভাষা মুক্তিযুদ্ধ বাংলাদেশ প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ও অর্থনীতি/সমাজনীতি। এখানে একটু দেখুন প্লিজ।সব ভালো ইনশাআল্লাহ্। পরিবার বাচান দেশ উন্নয়নে দৌড়াবে। দেশের মঙ্গলে কিছু করাই দেশকে ভালোবাসা 7487bcd0f876b6eadaea612aee0d66ce-58e74395d2260 ভারতের এই গুরুত্ব হাসিনা (বাংলাদেশ) আদায় করে নিচ্ছ......... Bangladesh.Desh prime minister government farmer politics economics .liberation Bangladeshi Bengali Day economy farmer land prabasi Uncategorized অর্থনীতি

সাত বছর পর বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী হিসেবে তাঁর এই ভারত সফর শুরুই হলো চমৎ​কার এক চমকের মধ্য দিয়ে। ঠিক ছিল, ভারতের ভারী শিল্প প্রতিমন্ত্রী বাঙালি গায়ক বাবুল সুপ্রিয় ইন্দিরা গান্ধী আন্তর্জাতিক বিমান বন্দরের টেকনিক্যাল এরিয়ায় শেখ হাসিনাকে স্বাগত জানাবেন। বাবুল হাজির সময়মতোই। কিন্তু সবাইকে চমকে দিয়ে প্রটোকলের তোয়াক্কা না রেখে আচমকাই উপস্থিত প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি! ভারতের সংসদীয় অধিবেশন চলছে। নানা বিষয়ে বিরোধীরা উত্তাল। কিন্তু তাতে কী? বিশ্বস্ত প্রতিবে​শী ও সবার চেয়ে বড় বন্ধু হাসিনাকে স্বাগত জানানোর তাগিদ মোদিকে টেনে আনল বিমান বন্দরে! বিস্মিত দুনিয়া দেখল দক্ষিণ এশিয়ার দুই বন্ধুর হাতে হাত সহাস্য মুখের ছবি।
দৃশ্যটা মুহূর্তের মধ্যে বুঝিয়ে দিল হাসিনার এই সফরের তাৎ​পর্য। আপ্লুত বাংলাদেশের মিনিস্টার প্রেস ফরিদ হোসেন বলতে ভুললেন না, ‘সকাল দেখলেই বোঝা যায় বাকি দিনটা কেমন যাবে। মোদিজির এই আসা বুঝিয়ে দিল প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সফর কতটা সফল হতে চলেছে।’
মন্ত্রী প্রণব মুখার্জির সরকারি বাংলোয় বহুবার এসে থেকেছেন হাসিনা। প্রণব মুখার্জি বিদেশমন্ত্রী ছিলেন যখন, বছর পাঁচেক আগে সেই সময় হাসিনা নিজের হাতে রান্না করে তাঁকে খাইয়েছিলেন। বড় ভাইয়ের মতো যাঁকে দেখেন, তাঁর জন্য তিরিশ কেজি ইলিশ আনাটা এমন কিছু বড় কথা নয়। বড় কথা এটাই , সম্পর্কটা এক আধদিনের জন্য নয়। সম্পর্কটা চিরন্তন।
ইলিশ তো ‘সাধারণ’ উপহার, হাসিনা কি আর শুধু ইলিশেই আবদ্ধ থাকতে পারেন? রাষ্ট্রপতির জন্য তাই তিনি পাঞ্জাবিও এনেছেন। ধুতিও। স্ত্রী শুভ্রা যতদিন ছিলেন, প্রতিবারই তাঁর জন্য জামদানি শাড়ি এনেছেন। তাঁর প্রয়াণের পর শ্রদ্ধা জানাতে হাসিনা দিল্লি এসেছিলেন। এবার মেয়ে শর্মিষ্ঠার জন্য এনেছেন রাজশাহী সিল্কের শাড়ি। জামদানি ছেড়ে রাজশাহী সিল্ক এবারই প্রথম। আর এনেছেন বাংলাদেশের বিখ্যাত হরেক মিস্টি।
হাসিনা

(হিন্দুস্তান টাইমসের সম্পাদকীয় অবলম্বনে)

 আজ শুক্রবার বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ভারতে আসছেন। এ সফরে ভারতের কাছে শেখ হাসিনার প্রত্যাশা খানিকটা বেশিই থাকবে। এ প্রত্যাশা যৌক্তিকও বটে। বাংলাদেশ যে ভারতের ঘনিষ্ঠ সহযোগী তা শেখ হাসিনার নেতৃত্বেই প্রমাণিত হয়েছে।

বিভিন্ন খবরে বলা হচ্ছে, এই সফরের সময় দুই দেশ ৪০টি চুক্তিতে স্বাক্ষর করবে। ভারত চাইছে, এ সফরে প্রতিরক্ষা সহযোগিতা চুক্তি হোক। সন্ত্রাস ও জঙ্গিবাদের বিরুদ্ধে দুই দেশের সহযোগিতা বৃদ্ধির জন্যই ভারতের এই প্রত্যাশা। এ সময় প্রায় সামরিক সরঞ্জাম ক্রয়ের জন্য ৫০ কোটি ডলারের ঋণ চুক্তি হতে পারে। সংযোগ থেকে শুরু করে জ্বালানি খাতের কয়েক শ কোটি ডলারের অর্থনৈতিক সহযোগিতা চুক্তির অংশ হিসেবেই এ চুক্তি হবে।
এ সফরে বাংলাদেশের পক্ষ থেকে যে বিষয়টি সবচেয়ে বেশি প্রত্যাশার তাহলো তিস্তা নদীর পানি বণ্টন চুক্তি। সেই ২০১১ সাল থেকে এ চুক্তিটি ঝুলে আছে। বাংলাদেশ সরকারের পক্ষ থেকে বলা হচ্ছে, তাদের কাছে তিস্তা চুক্তি একটি বড় ধরনের পরীক্ষা। তাদের কথা, দুই দেশের মধ্যে যে ৫৪টি আন্তসীমান্ত নদী আছে সেগুলোর পানি বণ্টনের ক্ষেত্রে তিস্তা চুক্তি একটি পথ প্রদর্শক হয়ে থাকবে।
এ সফরে যদিও শেখ হাসিনা এ চুক্তির বিষয়ে বাধাপ্রদানকারী হিসেবে চিহ্নিত পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সঙ্গে দেখা করবেন। তারপরও শেখ হাসিনার চার দিনের সফরে চুক্তি হবে কি না, তা নিশ্চিত নয়। যদিও দুই দেশের পক্ষ থেকে এমন একটি কথা বলা হচ্ছে যে, চুক্তির একটি খসড়া হবে। যার ফলে পূর্ণাঙ্গ চুক্তির পথ প্রশস্ত হবে।
২০১৯ সালে বাংলাদেশে সাধারণ নির্বাচন। তিস্তার মতো বড় ইস্যুতে ভারতের কাছে যদি নতজানু হতে হয়, তবে শেখ হাসিনার জন্য তা মঙ্গলজনক হবে না। বাংলাদেশে বিরোধী দল বিএনপি ক্রমাগত এ বিষয়টি নিয়ে কথাবার্তা বলে চলেছে। তারা ভারতের সঙ্গে প্রতিরক্ষা চুক্তির বিষয়ে প্রশ্ন তুলেছে ইতিমধ্যে। তাই এ সময় ভারতের উচিত শেখ হাসিনার মতো একজন পরীক্ষিত মিত্রের হাতকে শক্তিশালী করা। যে মিত্র ভারতের জন্য সন্ত্রাস এবং আঞ্চলিক কূটনীতির মতো খুবই গুরুত্বপূর্ণ দুটি বিষয়ে ভারতের সঙ্গে একই অবস্থান নিয়েছে।
নিজ দেশের মানুষের কাছে হাসিনার এ বার্তা দেওয়াটা জরুরি যে, তিনি ভারতের সঙ্গে দর-কষাকষির ক্ষেত্রে সমান তালেই রয়েছেন। আর এ জন্য নয়াদিল্লিকে অবশ্যই বেশি কিছু দিতে হবে বাংলাদেশকে। সাম্প্রতিক কয়েকটি নির্বাচনে ব্যাপক বিজয়ের পর এটি দেওয়ার মতো অবস্থানে আছে বিজেপি সরকার। বাংলাদেশ শক্তিশালী, স্থায়িত্বশীল এবং উন্নত হলে আখেরে তা ভারতের জন্য মঙ্গলজনকই হবে।
(হিন্দুস্তান টাইমসের সম্পাদকীয় অবলম্বনে)