বিষয়টা হেফাজত তুষ্টির নয়।বিষয়টা ধর্মকে সমীহ করা এবং ঐতিহ্যগত আমরা মুরুব্বীদের মান্য করি

 আমার কথা -বিষয়টা হেফাজত তুষ্টির নয়।বিষয়টা ধর্মকে সমীহ করা এবং ঐতিহ্যগত আমরা মুরুব্বীদের মান্য করিজাতি ধর্ম ভাষা মুক্তিযুদ্ধ বাংলাদেশ প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ও অর্থনীতি/সমাজনীতি। এখানে একটু দেখুন প্লিজ।সব ভালো ইনশাআল্লাহ্। পরিবার বাচান দেশ উন্নয়নে দৌড়াবে। দেশের মঙ্গলে কিছু করাই দেশকে ভালোবাসা cab1481992737eaf282bbd242896827b-58ed3a55def94-300x168 বিষয়টা হেফাজত তুষ্টির নয়।বিষয়টা ধর্মকে সমীহ করা এবং ঐতিহ্যগত আমরা মুরুব্বীদের মান্য করি bangalidesi প্রধনমন্ত্রী Bangladesh.Desh prime minister government farmer politics economics .liberation Bangladeshi Bengali economy everything farmer freedom land like the public prabasa prabasi tati Victory ।সব ভালো ইনশাআল্লাহ্।shobvalo জাতি ধর্ম ভাষা মুক্তিযুদ্ধ সবভালো অর্থনীতি আমিদেশ জনগন/দেশ/পরিবেশ কৃষক প্রবাশ প্রবাশী ফসল

মুল সংবাদ ও  বিশ্লেষণ

হেফাজত তুষ্টির পেছনে ভোটের রাজনীতি

জাতি ধর্ম ভাষা মুক্তিযুদ্ধ বাংলাদেশ প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ও অর্থনীতি/সমাজনীতি। এখানে একটু দেখুন প্লিজ।সব ভালো ইনশাআল্লাহ্। পরিবার বাচান দেশ উন্নয়নে দৌড়াবে। দেশের মঙ্গলে কিছু করাই দেশকে ভালোবাসা cab1481992737eaf282bbd242896827b-58ed3a55def94-300x168 বিষয়টা হেফাজত তুষ্টির নয়।বিষয়টা ধর্মকে সমীহ করা এবং ঐতিহ্যগত আমরা মুরুব্বীদের মান্য করি bangalidesi প্রধনমন্ত্রী Bangladesh.Desh prime minister government farmer politics economics .liberation Bangladeshi Bengali economy everything farmer freedom land like the public prabasa prabasi tati Victory ।সব ভালো ইনশাআল্লাহ্।shobvalo জাতি ধর্ম ভাষা মুক্তিযুদ্ধ সবভালো অর্থনীতি আমিদেশ জনগন/দেশ/পরিবেশ কৃষক প্রবাশ প্রবাশী ফসল    জাতি ধর্ম ভাষা মুক্তিযুদ্ধ বাংলাদেশ প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ও অর্থনীতি/সমাজনীতি। এখানে একটু দেখুন প্লিজ।সব ভালো ইনশাআল্লাহ্। পরিবার বাচান দেশ উন্নয়নে দৌড়াবে। দেশের মঙ্গলে কিছু করাই দেশকে ভালোবাসা 4e5a87340e66d447652abb088f6d4985-58f3cafc605fd বিষয়টা হেফাজত তুষ্টির নয়।বিষয়টা ধর্মকে সমীহ করা এবং ঐতিহ্যগত আমরা মুরুব্বীদের মান্য করি bangalidesi প্রধনমন্ত্রী Bangladesh.Desh prime minister government farmer politics economics .liberation Bangladeshi Bengali economy everything farmer freedom land like the public prabasa prabasi tati Victory ।সব ভালো ইনশাআল্লাহ্।shobvalo জাতি ধর্ম ভাষা মুক্তিযুদ্ধ সবভালো অর্থনীতি আমিদেশ জনগন/দেশ/পরিবেশ কৃষক প্রবাশ প্রবাশী ফসল    গণভবনে কওমি মাদ্রাসার আলেম-ওলামাদের সঙ্গে বৈঠককালে হেফাজতে ইসলাম বাংলাদেশের আমির আল্লামা শাহ আহমদ শফী (সামনের সারিতে মাঝে) ও ইকরা বাংলাদেশের পরিচালক মাওলানা ফরিদ উদ্দীন মাসউদের সঙ্গে কুশল বিনিময় করেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা l ছবি: বাসসকওমি মাদ্রাসা শিক্ষার সরকারি স্বীকৃতি বাস্তবায়নের চূড়ান্ত দায়িত্ব এখন হেফাজতে ইসলামের প্রধান আল্লামা শাহ আহমদ শফীর নেতৃত্বাধীন একটি কমিটির। সরকারি প্রজ্ঞাপনে যে কমিটি করে দেওয়া হয়েছিল, তার এক সভায় গতকাল সিদ্ধান্ত হয়েছে একটি অভিন্ন সংস্থা গঠনের, যারা দাওরায়ে হাদিসের পরীক্ষা নেবে এবং সনদ দেবে। এই সনদ ইসলামিক স্টাডিজ কিংবা আরবিতে স্নাতকোত্তর ডিগ্রির সমান হিসেবে সরকারিভাবে স্বীকৃত হবে।
বিষয়টিতে কওমি মাদ্রাসার ছাত্রছাত্রী ও শিক্ষক-আলেমদের আনন্দিত হওয়ারই কথা। ১১ এপ্রিল কওমি মাদ্রাসার সর্বোচ্চ স্তর দাওরায়ে হাদিসকে স্নাতকোত্তর ডিগ্রির সমমানের মর্যাদা দেওয়ার ঘোষণা দেন প্রধানমন্ত্রী। এবং ৪৮ ঘণ্টার মধ্যেই সরকার প্রজ্ঞাপন জারি করে সিদ্ধান্তটির আনুষ্ঠানিকতা পূর্ণ করে।
সরকারের আকস্মিক এই সিদ্ধান্তে রাজনৈতিক মহল এবং শিক্ষা ও সাংস্কৃতিক অঙ্গনে কিছুটা বিস্ময় ও অসন্তোষ দেখা দিয়েছে। প্রশ্ন উঠছে, সরকার কোন উদ্দেশ্য সাধনের আশায় এমন পদক্ষেপ নিল? প্রশ্নটি আরও জরুরি এ কারণে যে প্রায় ১১ বছর আগে বিএনপি-জামায়াত জোটের প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়া একই কাজ করলেও তা বাস্তবায়িত হয়নি। কওমি মাদ্রাসার সনদকে সরকারি স্বীকৃতি দেওয়ার সেই ২০০৬ সালের প্রজ্ঞাপন তার পরের তত্ত্বাবধায়ক সরকার যেমন অনুসরণ করেনি, তেমনি ২০০৯ সালে ক্ষমতায় আসা শেখ হাসিনার সরকার গত আট বছরে তা বাস্তবায়ন অথবা নতুন করে পদক্ষেপ গ্রহণের কাজটি ঝুলিয়ে রেখেছিল।
সরকারের উদ্দেশ্য খোঁজার আগে গত মঙ্গলবার প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে কওমি মাদ্রাসার আলেম-ওলামাদের বৈঠকের বিবরণ সরকারিভাবে যতটুকু প্রকাশ করা হয়েছে, সেটা একটু দেখে নেওয়া যেতে পারে। সরকারি প্রতিষ্ঠান বাংলাদেশ সংবাদ সংস্থার (বাসস) খবরে বলা হয়েছে, ‘কওমি মাদ্রাসার স্বতন্ত্র বৈশিষ্ট্য বজায় রেখে এবং ভারতের দারুল উলুম দেওবন্দের মূলনীতিকে ভিত্তি করে এই সমমান দেওয়া হলো বলেও তিনি (প্রধানমন্ত্রী) জানান।’ প্রধানমন্ত্রী আলেমদের উদ্দেশে বলেন, ‘প্রথমে একটি প্রজ্ঞাপন হবে। তারপর আপনারা যেভাবে চান সবকিছু মিলিয়ে একটি আইনি ভিত্তি দেওয়া হবে।’
সরকারি বার্তা সংস্থার খবর যথার্থ হলে এটুকু নিশ্চিত করে বলা যায় যে কওমি মাদ্রাসাগুলো পরিচালিত হবে ভারতের দেওবন্দির ধারায়। দেওবন্দি ধারাটি কী? ভারতের উত্তর প্রদেশের শাহারানপুরে ১৮৬৬ সালে প্রতিষ্ঠিত মাদ্রাসা দারুল উলুম দেওবন্দ তাদের শিক্ষার ধারায় কোনো ধরনের নিয়ন্ত্রণের বিরুদ্ধে। ভারতে তাদের অনুসারী মাদ্রাসার সংখ্যা প্রায় সাড়ে ৩ হাজার। ২০১৫ সালের ২৬ মার্চ বিবিসি জানায় যে দেওবন্দ কর্তৃপক্ষ মাদ্রাসাটির আধুনিকায়নে ভারতের কেন্দ্রীয় সরকারের ১০০ কোটি রুপির অনুদান প্রত্যাখ্যান করেছে। দারুল উলুম মাদ্রাসা বিভাগের অধিকর্তা মাওলানা আবদুল খালেক তখন বিবিসিকে বলেছিলেন যে দেড় শ বছরের পুরোনো এই প্রতিষ্ঠান কখনো সরকারি অনুদান নেয়নি—ভারতেরও না, বাইরের কোনো সরকারেরও না। তিনি বলেছিলেন, ‘দেওবন্দের প্রতিষ্ঠাতারাই এই বিধান করে গেছেন; কারণ সরকারের টাকা নিলে তাদের কথাই শুনতে হবে, আমরা আমাদের স্বাধীনতা হারাব।’
বোঝাই যাচ্ছে, নিজস্ব ইসলামের বিভিন্ন বিধিবিধানের ব্যাখ্যা তাঁরা যেভাবে করে থাকেন, সেটা অনুসরণের ব্যাপারে তাঁদের অবস্থান শক্ত এবং কোনো ধরনের সংস্কারে তাঁরা আগ্রহী নন। গত বছরের নভেম্বরে প্রধানমন্ত্রীর উদ্দেশে আল্লামা শাহ আহমদ শফী একটি চিঠি দিয়েছিলেন, যাতে তিনি স্পষ্ট করেই সরকারি নিয়ন্ত্রণের বিরুদ্ধে তাঁর অবস্থান তুলে ধরেছেন। ওই চিঠিতে তিনি লেখেন, ‘আমরা আপনার জ্ঞাতার্থে বিনীতভাবে আবেদন করতে চাই যে দেওবন্দের ৮ মূলনীতির ৭ নম্বর মূলনীতি হলো “এর পরিচালনা ও ব্যবস্থাপনায় সরকারের অংশীদারত্ব ক্ষতিকর।” সুতরাং সরকারের কোনো প্রকার নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠা করে আমাদের শিক্ষা সনদের মান দিলে তা এই মূলনীতির সাথে সরাসরি সাংঘর্ষিক।’ এখন প্রধানমন্ত্রীর ‘আপনারা যেভাবে চান সবকিছু মিলিয়ে একটি আইনি ভিত্তি দেওয়া হবে’ আশ্বাসে বোঝা যাচ্ছে, তাঁরা সেই স্বাধীনতা অক্ষুণ্ন রাখতে পারার অধিকার আদায় করে নিয়েছেন। ফলে মাদ্রাসাগুলোর পাঠ্যসূচি, শিক্ষার মান, পরীক্ষার পদ্ধতি, শিক্ষাদানকারী শিক্ষকদের যোগ্যতা নির্ধারণ—এগুলোর সবই করবে প্রজ্ঞাপনে যে কমিটি করে দেওয়া হয়েছে সেই কমিটি। ওই কমিটিতে না থাকছেন সরকারের কোনো প্রতিনিধি, না থাকছেন কোনো বিশ্ববিদ্যালয় বা বোর্ডের প্রতিনিধি।
হেফাজতে ইসলাম ও তার প্রধান নেতা আল্লামা শফী দেশের প্রধান দুই রাজনৈতিক দল বিএনপি ও আওয়ামী লীগ উভয়ের সঙ্গেই দর-কষাকষির কাজটি করেছেন। খালেদা জিয়ার সরকার ২০০৬ সালে কওমি মাদ্রাসাকে স্বীকৃতি দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেওয়ার পর তা বাস্তবায়ন করতে না পারায় যে সম্পর্কের ইতি ঘটেছিল, বিষয়টি এমন নয়। যে কারণে দেখা গেল, ২০১৩ সালের ৫ মে ঢাকা ঘেরাও কর্মসূচিতে খালেদা জিয়া বিএনপির নেতা-কর্মীদেরও শরিক হওয়ার নির্দেশ দিয়েছিলেন। এখন অবশ্য খালেদা জিয়া বর্তমান প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার বিরুদ্ধে ধর্ম নিয়ে রাজনীতি করার অভিযোগ তুলেছেন। অথচ ২০০৬ সালে তাঁর হেফাজত তুষ্টির কারণও ছিল ভোটের হিসাব। কেননা, সে বছরই নির্বাচন অনুষ্ঠানের কথা ছিল। আবার ২০১৩ সালের মে মাসের কর্মসূচিতে সমর্থনের কারণও ছিল ২০১৪-এর জানুয়ারিতে অনুষ্ঠেয় নির্বাচন, যদিও শেষতক তাঁরা সেই নির্বাচন বয়কট করেন।
একইভাবে বর্তমান সরকারের সিদ্ধান্তের পেছনেও যে নির্বাচনী রাজনীতি মূল কারণ, তাতে সন্দেহ নেই। ২০১৮-এর শেষ নাগাদ যে নির্বাচন হওয়ার কথা, তাতে শুধু বামপন্থী মিত্রদের ভোট আওয়ামী লীগের জন্য যথেষ্ট নয়। এই উপলব্ধি থেকেই ইসলামপন্থীদের ভোট যেভাবে যতটা বেশি সম্ভব নিজেদের দিকে টানার প্রয়োজনীয়তা আওয়ামী লীগ অনুভব করছে। ইমেরিটাস অধ্যাপক সিরাজুল ইসলাম চৌধুরীর ভাষায়, ‘যারা এটি করছে, তারা ভাবছে এর মাধ্যমে নির্বাচনে তাদের সমর্থন পাওয়া যাবে।’ আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের হেফাজতের সঙ্গে কোনো ধরনের জোট বা সমঝোতার কথা অস্বীকার করলেও বলেছেন, ‘আমরা বাংলাদেশের ৭০ হাজার কওমি মাদ্রাসার ছাত্রছাত্রীদের তো অবজ্ঞা করতে পারি না।’ (ব্যানবেইসের হিসাবে দেশে কওমি মাদ্রাসার সংখ্যা প্রায় ১৪ হাজার এবং ছাত্রের সংখ্যা প্রায় ১৪ লাখ)। গত আট বছরে একবারও কিন্তু এদের অবজ্ঞার কথা সরকারের কারও মনে আসেনি! ১৪ লাখ ছাত্রছাত্রী ও তাদের পরিবারগুলোর ভোটের সংখ্যা কম নয়। আর আমরা তো সবাই জানি, ২০০৮ সালের ব্যতিক্রম ছাড়া অন্য তিনটি সাধারণ নির্বাচনের কোনোটিতেই বাংলাদেশে আওয়ামী লীগ আর বিএনপির ভোটের ব্যবধান ৫ শতাংশের বেশি হয়নি।
মাওলানা শফী ও তাঁর সংগঠন হেফাজতের সঙ্গে সমঝোতার বিষয়টি দেশের অধিকাংশ সচেতন মানুষ, এমনকি আওয়ামী লীগ ও তার মিত্রদের বিভিন্ন পর্যায়ের নেতাদের বিস্মিত করেছে যেসব কারণে, তার কয়েকটির অন্যতম হচ্ছে ২০১৩ সালের ৫ মের ঢাকা ঘেরাও কর্মসূচি। গণ-আন্দোলনে সামরিক শাসক জেনারেল এরশাদের পতন ঘটানোর পর এত বড় ধরনের জন-অস্থিরতা সৃষ্টির চেষ্টা সম্ভবত আর হয়নি। সেই ঘটনায় হেফাজতের শীর্ষ নেতাদের অনেকের বিরুদ্ধে নাশকতার মামলাও রয়েছে। কিন্তু তাতেও মাওলানা শফী বিতর্ক সৃষ্টি থেকে পিছিয়ে থাকেননি। ওই ঘটনার মাস দুয়েকের মধ্যেই তাঁর একটি ওয়াজের ভিডিও চিত্র ইউটিউবে বের হয় এবং ফেসবুকে তা ছড়িয়ে পড়ে। এতে দেখা যায়, ৯৩ বছর বয়সী হেফাজতের আমির ওয়াজে নারীদের তেঁতুলের সঙ্গে তুলনা করছেন। তিনি নারীদের বাড়ির চারদেয়ালের মাঝে আবদ্ধ থাকার পরামর্শ দিয়েছেন।
এরপর ওই বছরের ১৩ জুলাই ঢাকায় এক অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেন, একজন ধর্মীয় নেতা হয়ে আল্লামা শফী নারীদের নিয়ে যে অশালীন বক্তব্য দিয়েছেন, তা তাঁকে বিস্মিত করেছে৷ একজন ধর্মীয় নেতার এ ধরনের বক্তব্য অনাকাঙ্ক্ষিত এবং নারীদের জন্য অবশ্যই অবমাননাকর৷ আল্লামা শফীকে ইঙ্গিত করে হাসিনা বলেন, ‘আমি তাঁকে বলতে চাই, তিনি কি কোনো মায়ের গর্ভ থেকে জন্ম নেননি? তিনি কি সেই মাকে সম্মান করেন না? তাঁর কি স্ত্রী বা কোনো বোন নেই?’ প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘হেফাজত বর্তমানে বিএনপির সঙ্গে জোট বেঁধেছে৷ কিন্তু বিএনপির প্রধান তো একজন নারী৷ তাহলে তিনি কীভাবে তাঁকে নেতা হিসেবে মেনে নিয়েছেন?’
শেখ হাসিনা তাঁর বক্তব্যে নারীদের সোচ্চার হতে বলেছেন৷ তিনি বলেন, ‘নারীদের বিরুদ্ধে যাতে আর কেউ কোনো দিন অশালীন মন্তব্য করতে না পারে, সে জন্য নারীনেত্রীদের সোচ্চার হতে হবে৷’ (প্রথম আলো, ১৪ জুলাই, ২০১৩)।
গত মঙ্গলবার মাওলানা শফীর সঙ্গে গণভবনে গিয়েছিলেন সরকারের ঘনিষ্ঠ ইকরা বাংলাদেশের পরিচালক মাওলানা ফরিদ উদ্দিন মাসউদ। মাওলানা মাসউদ ২০১৩ সালের মে মাসের ঘটনার পর বলেছিলেন যে হেফাজতে ইসলাম বাংলাদেশে ইসলামের বড় ক্ষতি করছে৷ তাদের সঙ্গে জামায়াত-শিবির একাকার হয়ে গেছে৷ সে সময় আরেকটি সরকার-সমর্থক গোষ্ঠী ইসলামী ঐক্যজোটের একাংশের চেয়ারম্যান মাওলানা মেসবাহুর রহমান চৌধুরী বলেছিলেন, আল্লামা শফী নারীদের নিয়ে যেসব কুরুচিপূর্ণ কথা বলছেন, তা কোনো সভ্য মানুষের পক্ষে বলা সম্ভব নয়৷ তিনি শুধু নারী নয়, পুরুষেরও অবমাননা করেছেন৷
রাজনৈতিক ও সাংস্কৃতিক অঙ্গন মঙ্গলবারের কওমি মাদ্রাসার প্রতিনিধিত্বের দাবিদার আলেমদের অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রীর অন্য যে মন্তব্যে বিস্মিত হয়েছে সেটি হচ্ছে, সুপ্রিম কোর্ট প্রাঙ্গণে স্থাপিত গ্রিক দেবী থেমেসিসের ভাস্কর্য বিষয়ে। বাসসের বিবরণ অনুযায়ী, প্রধানমন্ত্রী বলেছেন, ‘আমাদের সুপ্রিম কোর্টের সামনে গ্রিক থেমেসিসের মূর্তি লাগানো হয়েছে। সত্য কথা বলতে, আমি নিজেও এটা পছন্দ করিনি।’ তিনি হেফাজতের নেতাদের ধৈর্য ধরার আহ্বান জানিয়ে বলেন, ‘একটা কিছু যখন করে ফেলেছে, সেটাকে আমাদের সরাতে হবে।’ অনেক দিন ধরেই আওয়ামী লীগের ঘনিষ্ঠ বলে দাবিদার আওয়ামী ওলামা লীগ (সম্প্রতি আওয়ামী লীগ এই সংগঠনের সঙ্গে তাদের কোনো সাংগঠনিক সম্পর্ক থাকার কথা অস্বীকার করেছে) এই ভাস্কর্যর অপসারণের দাবি করে আসছে। সরকার তখন সেটি অপসারণ তো দূরের কথা, ভাস্কর্যটি যে পছন্দনীয় বা দৃষ্টিনন্দন হয়নি এমন কোনো মতামত সরকারের তরফ থেকে প্রকাশ করা হয়নি। মাওলানা শফীর সঙ্গে সহমত পোষণে তাই স্বভাবতই রাজনৈতিক উদ্দেশ্যের কথা উঠেছে। হেফাজতের মতো ধর্মীয় গোষ্ঠীকে খুশি করার পেছনে যে সেই ভোটের রাজনীতি কাজ করেছে, তা বুঝতে দলটির কোনো মুখপাত্রের স্বীকারোক্তির প্রয়োজন হয় না। আল্লামা শফীর নেতৃত্বে গতকালের বৈঠকে সুপ্রিম কোর্টের সামনের ভাস্কর্য সরিয়ে নেওয়ার আশ্বাস পূরণের কথাও স্মরণ করিয়ে দেওয়া হয়েছে। এখন তাই প্রশ্ন, রাজনৈতিক আপসের মূল্য দেওয়া শেষ হবে কবে।